সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নং নয়াপাড়ায় ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। মানববন্ধনে হামলাকারী জাফর আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আলীকদম উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘আলীকদমের সর্বস্তরের সচেতন জনসাধারণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ডাকাত জাফর আলম কোনো জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়ে নয়, সে একজন সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত। সে জানালী পাড়া ও মেনিংচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ম্রো জনগোষ্ঠীর জুমচাষের ফসল চুরি করে আসছে। এতে নিরীহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী মিয়ানমার এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধে তার জড়িত এ জাফর আলম।
বক্তারা আরও বলেন, জাফর আলম ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার দাবি করেন এবং রোহিঙ্গা ডাকাত জাফর আলম কে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আলীকদম থানা ঘেরাও কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নয়া পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন,একই ইউনিয়নের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, বাবু পাড়া রিজার্ভ মৌজার হেডম্যান উক্যজাই মার্মা,চাহ্লামং মার্না, আলীকদম ম্রো অর্গানাইজেশন কমিটির সভাপতি সেথং ম্রো ও পিসিজেএসএস নেতা পূর্ণসেন তঞ্চঙ্গ্যাঁসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
এর আগে আলীকদম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মানববন্ধনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সকালে বাগানে কলার ছড়া ও গাছ চুরি করার সময় জাফর নামের একজনকে গ্রামবাসী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। থানায় সংবাদ দেওয়ার জন্য তাকে জানালী পাড়ায় আটকে রাখা হয়। কিন্তু পুলিশকে খবর দেওয়ার আগে জাফরের দলের ১২ থেকে ১৪ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাড়াবাসীদের ওপর হামলা চালান। ম্রোদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা জাফরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এতে অন্তত ১৮ জন আহত হয়।
এ বিষয়ে আলীকদম থানার এস আই আবু ছৈয়দ বলেন,ম্রোদের উপর হামলার বিষয়ে মামলা রজু হয়েছে। জাফর আলম কে আটক করতে অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছ বলে জানান।
